হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা - সিদ্ধ হাঁসের ডিমের উপকারিতা

প্রিয় বন্ধুরা, আমরা সকলেই হাঁসের ডিম খেয়ে থাকি। কিন্তু আমরা হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানিনা। এই সম্পর্কে যদি আপনারা জানতে চান, তাহলে আমাদের আর্টিকেলটি ভিজিট করুন। কেননা আজ আমরা হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা এবং সিদ্ধ হাঁসের ডিমের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তাহলে চলুন দেরি না করে হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেই।

হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা

হাঁসের ডিম আমাদের জন্য খুবই একটি পুষ্টিকর খাদ্য। এর বিভিন্ন গুণ রয়েছে এবং বিভিন্ন রোগবালায় দূর করতে সাহায্য করে এবং পেশার বাড়াতেও কার্যকারী। এবং এর অপকারিতাও রয়েছে। কথা না বাড়িয়ে জেনে নেই।

পোস্ট সূচিপত্রঃ হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা - সিদ্ধ হাঁসের ডিমের উপকারিতা

ভূমিকা - হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা

দৈনন্দিন জীবনে হাঁসের ডিম আমরা বিভিন্নভাবে খেয়ে থাকি। সিদ্ধ করে, রান্না করে ও ভেজে হাসির ডিম খেয়ে থাকি। তবে হাঁসের ডিম কিভাবে খেলে আমাদের জন্য বেশি উপকার হবে সে বিষয়ে আজ আমরা এই আর্টিকেলে আলোচনা করেছি। এছাড়াও আমরা সকলে মনে করি হাঁসের ডিমে শুধুই উপকারিতা হয়েছে আসলে তা নয়, সকল জিনিসেরই যেরকম উপকারীতা রয়েছে সেই রকমই কিছুটা হলেও অপরিচিত হয়েছে। 

সেজন্য আমাদেরকে প্রথমে হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে হবে। এছাড়াও আপনারা আমাদের আর্টিকেল সম্পূর্ণ পড়েন তাহলে হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতার সঙ্গে সিদ্ধ হাঁসের ডিমের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে দেরি দেরি না করে মূল কথায় চলে যায়।

হাঁসের ডিম খেলে কি প্রেসার বাড়ে

আপনারা বেশিরভাগ মানুষ জানেন যে হাঁসের ডিম খেলে পেশার বাড়ে, যদি আপনারা তাই মনে করে থাকেন তাহলে আপনাদের এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। কারণ হাঁসের ডিম খেলে প্রেসার বাড়ে না। আপনার পেশার বাড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে, আপনার শরীরে ফ্যাট জমে যাওয়ার ফলে রক্তনালীগুলো প্রথমের মত নেই সেগুলো শুরু হয়ে গেছে। সুগার খাবার খাওয়ার ও ঠিকমতো ব্যায়াম এবং শরীরচর্চা না করার জন্য মূলত আপনার শরীরে ফ্যাট জমে গেছে।

এর ফলে আপনার প্রেসার বেড়ে যায়। আর যদি আপনি ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন তাহলে প্রেসার বাড়বে না। সেক্ষেত্রে আপনি নির্দ্বিধায় হাঁসের ডিম খেতে পারেন। তবে হ্যাঁ আপনার শরীর যদি খুবই দুর্বল এবং প্রেসার লো হয়ে যায়। সেই ক্ষেত্রে হাঁসের ডিম আপনার শরীরকে সুস্থ এবং প্রেসার কে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে খুবই কার্যকরী।

আরো পড়ুনঃ কাঁঠাল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 

কারণ হাঁসের ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এছাড়াও রয়েছে, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, থায়ামিন, রাইবোফ্লোভিন এবং নিয়াসিন। এছাড়াও ভিটামিন ডি, ভিটামিন এ, আরো অনেক উপকরণ রয়েছে শুধুমাত্র একটি হাঁসের ডিমে। তাই বলে আমরা ডিম খেলে রক্তচাপ বৃদ্ধি করে বলতে পারব না। কেননা ডিম শুধু আমাদের শরীরে শক্তি যোগায়, এবং সঠিক মাত্রার প্রেসার কমে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে কাজ করে থাকে। তাই বলে অতিরিক্ত হাঁসের ডিম খাওয়া যাবেনা।

হাঁসের ডিমে কি এলার্জি আছে

আপনারা অনেকেই মনে করেন যে, হাঁসের ডিম খেলে মনে হয় এলার্জি হয়। আসলে আমাদের ধারণাটি সত্য। তবে হাঁসের ডিমের কুসুমে এলার্জি থাকে না সাদা অংশে এলার্জি রয়েছে। তাই আপনারা চাইলে সাদা অংশটি এড়িয়ে ডিমের কুসুম খেতে পারেন। এছাড়া আপনারা অনেকে মনে করেন যে আপনাদের সকল ডিম খেলে এনার্জি হয়, আসলে এটি তা নয়, আপনি প্রথমে সঠিকভাবে লক্ষ্য করবেন যে আপনার কোন দিনটি খেলে এলার্জি হচ্ছে হাঁসের ডিম নাকি মুরগির ডিম নাকি কোয়েলের ডিম এবং ব্রয়লারের ডিম। তারপরে যেই ডিমটি খেলে আপনার অ্যালার্জি হয় সেই দিনটি এড়িয়ে চলবেন।

আমাদের অনেকেরই সমস্যা দেখা দেয় হাসির ডিম খাওয়ার পরপর। কারণ হাঁসের ডিমের সাদা অংশে এলার্জি রয়েছে, এবং এর কুসুমে কোন এলার্জি নেই। আপনারা যদি প্রতিদিন একটি করে হাসির ডিম খেতে পারেন তাহলে আপনাদের শরীরে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন। কারণ হাঁসের ডিম রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সেটা আমরা অনেকেই জানি।

আপনি কি মনে করছেন শুধু হাঁসের ডিমে এলার্জি জনিত সমস্যা হয়, আসলে এমনটা নয় ব্রয়লারের ডিম, মুরগির ডিম, কোয়েল পাখির ডিম ইত্যাদি সবগুলোতেই এলার্জি থাকতে পারে। তবে আপনার কোন ডিম খাওয়ার ফলে বেশি সমস্যা হচ্ছে সেটা আপনাকে আগে লক্ষ্য করতে হবে। আসুন জেনে নেই হাঁসের ডিমে যদি আপনার অ্যালার্জি হয় তাহলে কি কি সমস্যা হবে।

  • যদি আপনার হাঁসের ডিমের জন্য অ্যালার্জি হয় তাহলে আপনার ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দেবে এবং চুলকানি হবে।
  • সর্দির সঙ্গে হাঁচি ও কাশি দেখা দেবে।
  • বমি বমি ভাব এবং মাথা ঘোরা।
  • আপনার যদি হাঁসের ডিম খাওয়ার ফলে এলার্জি হয় তাহলে আপনার ত্বকের জ্বালাপোড়া ও ত্বক লাল হয়ে যাবে।
  • পূর্বে থেকে যদি আপনার হাঁপানির সমস্যা থাকে তাহলে শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং বুকে টান টান অনুভব করা।
  • তীব্র পেট ব্যথা করা।
  • আপনার ত্বকে লাল ঘামাচির মত হয়ে যাওয়া।

হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা

আমরা সকলেই জানি যে হাঁসের ডিমের প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে। এজন্য আমরা অনেকে হয়তো প্রতিদিন হাঁসের ডিম খেয়ে থাকি। তবে তার জানা উচিত যে যে কোন জিনিস অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। সকল জিনিস অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে তার বিপরীত দিকে কাজ করতে পারে।

হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা - সিদ্ধ হাঁসের ডিমের উপকারিতা

এজন্য আমরা হাঁসের ডিমের উপকারিতা আছে বলে অতিরিক্ত পরিমাণে হাঁসের ডিম খেতে পারব না। এটা বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে, সেই সমস্যাগুলো জানার জন্য আপনাকে আমাদের আর্টিকেলের হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে। চলুন কথা না বাড়িয়ে দেরি না করে হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কের সকল তথ্যগুলো জেনে নেই।

হাঁসের ডিমের উপকারিতা হচ্ছে;

  • হাঁসের ডিমের কুসুমে আন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা আপনার কোষ এবং রক্তের অক্সিডেটিভ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
  • হাসির ডিমে অনেক পরিমাণে ভিটামিন এ থাকায় আমাদের রক্ত ত্বকের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
  • প্রতিদিন আমরা যদি কমপক্ষে একটি করে হাসির ডিম নিয়ম করে খেতে পারি তাহলে আমাদের শরীরটি সুস্থ হয়ে যাবে।
  • হাঁসের ডিমে রয়েছে ভিটামিন এ যা আপনাদের চোখের দৃষ্টি ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। অর্থাৎ যাদের চোখের সমস্যা তারা হাঁসের ডিম প্রতিদিন খেতে পারে। তাহলে খুব দ্রুতই আপনার চোখে বৃদ্ধি শক্তি বাড়বে।
  • প্রতিদিন খাওয়ার জন্য তার সফল ভিটামিনের অভাব শরীরের সকল রোগ বালাই দূর করতে সাহায্য করে।
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ছাড়াও রিবোফ্লাভিন এর মত শক্তিশালী সমৃদ্ধ বিদ্যমান হাঁসের ডিমে।
  • এছাড়াও দিনের কুসুমে রয়েছে কোলিন ও লেসিথিন। যা আমাদের শরীরের জন্য সুস্থ কোষ ঝিল্লি, নিউরোট্রান্সমিটার ও মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • ক্যান্সার ও হৃদরোগের মত ঝুঁকিপূর্ণ রোগ ভালো করতে ভিটামিন বি১২ এর প্রয়োজন হয়। আর এই ভিটামিন বি১২ হাঁসের ডিমে উপস্থিত। তাই বলা যায় হাসির ডিম হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মত রোগ গুলো কমাতে খুবই কার্যকারী।

হাঁসের ডিমের অপকারিতা হচ্ছে,

  • যাদের প্রেসার রয়েছে, তারা যদি অতিরিক্ত ডিম খায় তাহলে তাদের প্রেসারে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • হাঁসের ডিম অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে বদহজমের জন্য আপনার পেটের সমস্যা হতে পারে।
  • এছাড়াও অতিরিক্ত ভাবে খাওয়ার জন্য ডিমে থাকা কোলেস্টেরলের মাত্রা আপনার দেহের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
  • আমরা সকলে জানি যে হাঁসের ডিম খাওয়ার ফলে আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি করতে পারে। তবে যদি আপনি অতিরিক্ত পরিমাণে হাঁসের ডিম খান তাহলে আপনার ক্ষেত্রে উল্টো কাজ করবে তখন আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।
  • অতিরিক্ত হাঁসের ডিম খাওয়ার জন্য অ্যালার্জি হতে পারে।
  • যাদের অ্যালার্জি রয়েছে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হাসির ডিম খেতে পারবেন।
  • অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার জন্য উচ্চ রক্তচাপের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
  • হাঁসের ডিম বেশি খাওয়ার ফলে রক্ত চাপের মাত্রা বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিসের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
  • হাঁসের ডিমের কোলেস্টেরল বেশি থাকায়, অতিরিক্তভাবে হাঁসের ডিম খেলে খিচুনি রোগ দেখা দিতে পারে।

হাঁসের ডিমের ক্ষতিকর দিক 

  • আপনি যদি প্রেসারের রোগী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার হাঁসের ডিম খেলে প্রেসারে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য যারা প্রেসারের রোগী তারা ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
  • ডিমে যাদের এলার্জি রয়েছে তারা হাতে টিম থেকে বিরত থাকবেন। কেননা হাঁসের ডিমের সাদা অংশে এলার্জি রয়েছে।
  • হাঁসের ডিম খেলে আপনাকে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবে না।
  • অতিরিক্ত হাঁসের ডিম খাওয়ার পরে আপনার উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাবে এবং ডাইবেটিসের মুখে পড়তে পারেন।
  • হাঁসের ডিম খাওয়ার ফলে যেমন হৃদরোগের মতো রোগ ভালো হয়। তেমনি অতিরিক্ত পরিমাণে হাঁসের ডিম খাওয়ার জন্য হৃদরোগের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • এছাড়া অন্যান্য সকল ডিমের থেকে হাঁসের ডিমের কোলেস্টেরলের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। যার ফলে আপনার দেহের খারাপ কোলেস্টেরল গুলো মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
  • দিন আপনি দুটি থেকে একটি বেশি ডিম খেতে পারবেন না।
  • সপ্তাহে চার থেকে পাঁচটির বেশি ডিম খাওয়া ঠিক নয়।
  • অন্যান্য ডিমের থেকে হাঁসের ডিমে তিন গুণ কোলেস্টেরল বেশি রয়েছে। এর ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • যাদের হাসির ডিম খেলে বমি বমি ভাব এবং ডায়রিয়ার মত রোগ লক্ষণীয় তাদেরকে অবশ্যই হাঁসের ডিম বর্জন করতে হবে।
  • হাঁসের ডিম কাঁচা খাওয়া যাবে না।
  • সে ডিম খাওয়ার সময় আপনাকে ভালোভাবে সিদ্ধ করে, অত্যন্ত পাঁচ মিনিট যাবত সিদ্ধ করে খেতে হবে। না হলে আপনার পেটে সমস্যা হতে পারে।
  • অতিরিক্ত হাঁসের ডিম খাওয়ার ফলে বদহজমের জন্য আপনার পেটে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সিদ্ধ হাঁসের ডিমের উপকারিতা

হাড় শক্ত করতে সাহায্য করে

হাড়ের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সকল উপাদান গুলো হারকে মজবুত এবং শক্ত করতে খুবই কার্যকরী। আর এই সকল উপাদান গুলো হাঁসের ডিমে লক্ষ্য করা যায়। সেজন্য আমরা কে শক্ত ও মজবুত রাখতে হাঁসের ডিম সিদ্ধ করে খাব।

কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে

হাঁসের ডিমে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল পাওয়া যায়। তবে আপনি যদি অতিরিক্ত হাঁসের ডিম খেয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই ভালো করে সিদ্ধ করে খেতে হবে। কারণ সিদ্ধ হাঁসের ডিমে পাওয়া যায় সেগুলো আমাদের দেহের খারাপ কোলেস্টেরল গুলোকে বের করে দেই। এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়।

প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

অন্য সকল ডিমের থেকে হাঁসের ডিমে সবথেকে অনেক বেশি ভিটামিন ও প্রোটিন এবং আয়রন রয়েছে। যেগুলো খেলে আমাদের শরীরের সকল ক্লান্তি এবং রোগ বালাই দূর করতে সাহায্য করে।এবং আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ওজন বাড়াতে সাহায্য করে

আপনি যদি প্রতিদিন নিয়মিত একটি থেকে দুটি করে ডিম খেতে পারেন। এবং খাওয়ার সময় আপনাকে ডিমটি ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে। আপনি যদি এই নিয়মের ডিম গুলো খেতে পারেন।তাহলে আপনার শরীরের ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে আপনি যদি মনে করে থাকেন আপনার রোগা পাতার শরীরকে একেবারেই মোটা করে দেবে সেই ধারণাটি ভুল। পূর্বে আপনার যেই ধরনের শরীর ছিল, তার থেকে যদি আপনার শরীরের ওজন কমে যায় তবে হাঁসের ডিম ততটুকু ওজনই বাড়াতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

হাঁসের ডিমের পুষ্টিগুণ

আমরা সকলে হাসির ডিম খেতে ভালবাসি। হাসির ডিম খাওয়ার পরে আমাদের বিভিন্ন রোগবালাই ভালো হয়। এবং শরীরের রোগ বাড়ায় দূর করার জন্য রূপ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।আমরা শুধু অনেকেই জানি যে আসে ডিম খেলে উপকারিতা হয়, এবং এর পুষ্টিগুণ কি তা অনেকেই জানিনা। এই ডিমে অনেক পুষ্টিগুণ থাকার কারণ এতে অনেক প্রোটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ উপাদান গুলো বিদ্যমান। চলুন জেনে নেই হাঁসের ডিমের পুষ্টিগুণ গুলো।

  • হাঁসের একটি ডিমে ১৮৫ গ্রাম ক্যালরি রয়েছে যা আমাদের শরীরের এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে।
  • এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬।
  • ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন ই রয়েছে এই টিমে।
  • হাঁসের ডিমে থাকে রেটিনল এবং ফোলেট এর মত উপাদান।
  • এছাড়াও হাঁসের ডিমে রয়েছে ১৩০ গ্রাম ক্যালোরি।
  • ৯ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে।
  • চর্বি থাকে ১০ গ্রাম।
  • চিনি থাকে ২ গ্রাম।
  • কার্বোহাইড্রেট রয়েছে ১.৫ গ্রাম হাঁসের ডিমের।

হাঁসের ডিম খাওয়ার নিয়ম

আসলে সত্যি কথা হচ্ছে যে হাঁসের ডিম খাওয়ার কোন নিয়ম নেই। আপনি যখন ইচ্ছা তখন হাসে ডিম খেতে পারেন। তবে আপনি যদি প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠে সকালে এবং ঘুমোতে যাওয়ার আগে রাতে খান তাহলে বেশি উপকার পাবেন। আপনি যদি ঘুমোতে যাওয়ার আগে ডিম খেয়ে ঘুমান, তাহলে আপনার সারাদিনের সকল ক্লান্ত এবং শরীরের দুর্বলতা কাটাতে খুবই কার্যকারী। এবং আপনি যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে ডিম খান তাহলে আপনার সারাদিন কাজের যে ক্লান দিয়ে এবং দুর্বলতা আসে সেগুলো রোধ করতে সাহায্য করবে।

আরো পড়ুনঃ ঢেঁড়স এর উপকারিতা ও অপকারিতা

এটা আপনি দিনে কমপক্ষে দুটি ডিম খেতে পারেন। অতিরিক্ত ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ হাসি টিমে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এবং কোলেস্টেরল যা আমাদের শরীরের লোহিত রক্ত কণিকা গুলো বাড়ায়। যদি আপনি অতিরিক্ত পরিমাণে হাসির ডিম খান তাহলে আপনার বদহজলের জন্য পেটে সমস্যা হতে পারে।

প্রতিদিন হাঁসের ডিম খেলে কি হয়

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে

আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ বালাই থেকে থাকে। এই রোগবালাই এগুলো দূর করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ডিম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টিমে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উপাদান যেমন ভিটামিন, প্রোটিন, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা বাড়ায়।

হাড় শক্ত এবং ক্ষয়রোধ করে

হাড়কে মজবুত করতে প্রতিদিন দিন ডিম খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। কারণ ডিমের এসে অসংখ্য পরিমাণে ভিটামিন এবং প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা হাড়ের ক্ষয় রোধ করে এবং হাড়কে মজবুত করে রাখে। আর এই সকল উপাদান গুলো হাঁসের ডিমে ভরপুর।

প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে

আমরা সকলের মনে করি যে হাসির ডিম খেলে নাকি প্রেসার বেড়ে যায়। আসলে এ ধারণাটি আমাদের ভুল। হাঁসের ডিম খেলে প্রেসার বাড়ে কিন্তু কোন ক্ষেত্রে বাড়ে তা আমরা অনেকেই জানিনা। আসলে যদি আপনার স্পেশাল লো থাকে বা কমে যায় সেই ক্ষেত্রে আপনার প্রেসার কে সঠিক মাত্রায় নিয়ে আসতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

হাঁসের ডিমের দাম ২০২৩

হাঁসের ডিম

দাম

এক পিস ডিম

১৫

জোড়া ডিম

৩০

এক হালি ডিম
৬০
এক ডজন ডিম
১৮০

হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা?; শেষ কথা

আশা করি হাঁসের ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা এবং সিদ্ধ হাঁসের ডিমের উপকারিতা সম্পর্কে আপনারা নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন। এবং তা সঠিকভাবে মেনে চলতে আপনাদেরকে আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ডিম খাওয়ার ফলে অনেক রোগ বালাই করে যায় এবং সেগুলো প্রতিরোধ করার মত ক্ষমতা আমাদের শরীরে তৈরি হতে পারে।অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

আরো পড়ুনঃ টমেটো খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

আমার মতে একজন মানুষকে সুস্থ সবল ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে হাঁসের একটি করে ডিম খাওয়া উচিত। তবু যদি না পারেন চেষ্টা করেন সপ্তাহের দুটি থেকে তিনটি হাঁসের ডিম খাওয়ার।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আরাবি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url