স্বামী স্ত্রীর আদর ভালোবাসা - স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক

 প্রিয় বন্ধুরা আপনারা কি স্বামী স্ত্রীর আদর ভালোবাসা এবং স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কিভাবে গড়ে তুলতে হয় তা কি জানতে চাচ্ছেন। তাহলে চিন্তা নেই এই আর্টিকেল থেকে স্বামী স্ত্রীর আদর ভালোবাসা কেমন হওয়া উচিত এবং স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কিভাবে তৈরি করতে হয় এবং স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া দূর করার উপায় জানতে পারবেন। তাহলে চলুন দেরি না করে স্বামী স্ত্রীর আদর ভালোবাসা এবং স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গুলো জেনে নেই

স্বামী স্ত্রীর আদর ভালোবাসা - স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
প্রিয় পাঠক আপনারা যদি সঠিকভাবে স্বামী স্ত্রীর আদর ভালোবাসা ও স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কিভাবে গড়ে তুলতে হয় এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ স্বামী স্ত্রীর আদর ভালোবাসা - স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক

ভূমিকা | স্বামী স্ত্রীর আদর ভালোবাসা

বর্তমান সময়ে দেখা যায় যে বেশিরভাগ দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর আদর ভালবাসা এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছাড়া বেশিরভাগই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকে। এর কারণ আপনি স্বামী স্ত্রীর আদর ভালবাসা কিভাবে গড়ে তুলতে হয় এবং স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কিভাবে তৈরি করতে হয় সেই বিষয়গুলো জানেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন স্বামী স্ত্রীর আদর ভালোবাসা এবং স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এর ভেতরে রয়েছে অনেক বরকত এবং সওয়াব। আর যত ঝগড়া বিবাদ হবে ততই বেশি আমাদের জন্য এবং আমাদের পরিবারের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠবে।

এজন্য সকলের উচিত স্বামী স্ত্রীর একসঙ্গে মিলেমিশে থাকা। এ জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম  স্বামী স্ত্রীর আদর ভালবাসা সম্পর্কে এবং স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কিভাবে গড়ে তুলতে হয় তা বিস্তারিত জানতে হবে। এজন্য আপনাকে আমাদের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। তাহলে আপনারা স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন এবং আদর ভালোবাসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাই চলুন দেরি না করে এই সম্পর্কগুলো জেনে নেই।

স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া কেন হয়

প্রিয় বন্ধুরা আপনারা সকলেই শয়তানের কথা শুনেছেন। এই শয়তান মহান আল্লাহর নির্দেশ হুকুম না মানায় ইবলিশ শয়তানে পরিণত হয়। এবং তিনি আল্লাহর কাছে চ্যালেঞ্জ করেন যে তিনি সকল মানুষকে গিরাই গিরায় শিরায় শিরায় রক্তের বিন্দুতে বিন্দুতে ঢুকে প্রত্যেকটি মানুষ জাতিকে ধোকা দেবে এবং তাদেরকে আল্লাহর বিরুদ্ধে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামের অধিবাসী করে। শয়তানের হেড অর্থাৎ প্রধান একে বলা হয় ইবলিস শয়তান।

আরো পড়ুনঃ আল আকসা মসজিদের বর্তমান অবস্থা জানুন

তার কথা শুনে অনেক শয়তানেরা মানুষকে নানান জায়গায় নানান ভাবে ধোকা দিয়ে থাকে। তখন সেই প্রধান ইবলিশ শয়তানের কাছে গিয়ে তারা খুলে বলে এবং তাদের প্রশংসা নেই। একদিন শয়তানেরা একত্রিত হয়েছে এবং ইবলিশ শয়তান হচ্ছে তাদের লিডার তার কাছে তারা সকল কাজকর্মের হিসাব দিয়ে থাকে। একদিন ইবলিশ শয়তান সকল শয়তানে কাজ থেকে যখন তাদের কাজকর্মের কথা শুনতে চাচ্ছিল। তখন এক শয়তানকে বলল তুমি কিভাবে মানুষকে ধোকা দিয়েছো তখন একজন বলল আমি তাকে চুরি করতে উৎসাহ দিয়েছি এবং চুরি করেছি তাকে দিয়ে।

অন্য জনকে বলল তুমি কি করেছ তখন সেই শয়তানটি বলল আমি তাকে দিয়ে যেনার কাজ করেছি। অপরজন বলল তুমি কি করেছ সে উত্তর দিল আমি তাকে সুদ এবং ঘুষ দিতে ও নিতে বাধ্য করেছি। আরেকজন বলল আমি একানকে খুন করতে উৎসাহ দিয়েছি এবং তাকে দিয়ে খুন করেছি। সর্বশেষ ইবলিশ শয়তান অন্য এক শয়তানকে বলল তুমি কি করেছো তখন সে কথায় উত্তর দিয়ে বলল আমি এক স্বামী-স্ত্রীর ভেতরে ঝগড়া-বিবাদ বাদিয়ে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য করেছি। তখন সেই অনেক খুশি হয়ে গেল এবং সবার থেকে তাকেই বেশি প্রশংসিত করলো।

তার মানে আপনারা প্রিয় পাঠক বুঝতে তো পারলেন যে সব থেকে শয়তানের ভালো কাজ ও যে কাজটি করলে সব থেকে তারা খুশি হয় সেটি হচ্ছে স্বামী স্ত্রীর ভেতরে ঝগড়া বাঁধিয়ে দেওয়া এবং তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করা। তাহলে আপনারা বুঝতে পারলেন স্বামী-স্ত্রীর ভেতরে ঝগড়া হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে শয়তানের ওসোয়া। এর ভেতরেও রয়েছে তাদের স্বভাব চরিত্র ও মলমালিন্য। কিছু কিছু স্বামী-স্ত্রী রয়েছে যারা একে অপরকে সহ্য করতে পারেনা এবং তার কাজ পছন্দ হয় না। এর ফাঁকে শয়তান ঢুকে তাদেরকে আরো বেশি তীব্র রাগিয়ে তোলে এবং তাদের ভেতরে ঝগড়া বানিয়ে দেয়।

স্বামী স্ত্রীর আদর ভালোবাসা

এই পৃথিবীতে পিতা-মাতার পরে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক হচ্ছে খুবই ঘনিষ্ঠ একটি সম্পর্ক। পিতা-মাতার ভালোবাসার পরে তাদের ওই ভালোবাসার স্থান। তাদের ভালবাসার ভেতরে রয়েছে অনেক নেকি এবং সওয়াব। প্রত্যেকটি দাম্পত্য জীবনকে সুখী করে তোলার জন্য প্রত্যেকটি স্বামী স্ত্রীর উচিত একে অপরকে বিশ্বাস করা অনেক বেশি ভালোবাসা। একজন আরেকজনকে তার কাজে সাহায্য করা এবং অপরজন আরেকজনকে তার কাছে সাহায্য করা। এবং তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা। তাহলে একে অপরের প্রতি সৃষ্টি হবে খুবই আদর এবং ভালোবাসার এক মুহূর্ত।

ইসলামের রয়েছে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তিনি তার স্ত্রীদের সঙ্গে কখনো দুর্ব্যবহার ও খারাপ আচরণ করেননি। সর্বদা তাদেরকে ভালোবেসেছেন ও তাদের সকল জিনিস চাওয়া পাওয়া এবং মুখ দিয়ে বলার আগেই তাদের সামনে নিয়ে হাজির হয়েছেন। এবং তাদের যখন মন খারাপ ও শরীর খারাপ এই সময় গুলোতে সব সময় তাদের সঙ্গে সময় দিতেন। এবং তাদের সঙ্গে সব সময় হাসি ঠাট্টা ও মজার মানুষ হয়ে থাকতেন।

আরো পড়ুনঃ থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা গুলো জানুন

তিনি বলেছেন স্বামী স্ত্রীর প্রতিটি ভালোবাসার মুহূর্ত হচ্ছে আল্লাহর কাছে প্রিয় মুহূর্ত। এবং সেই মুহূর্তের বিনিময়ে তারা আল্লাহর কাছ থেকে অনেক সওয়াব ও নেকি পায় এবং তাদের পুরনো পাপ গুলো ক্ষয় হতে শুরু করে। এবং আরো বলেছেন যে স্বামী তার স্ত্রীকে এক লোকমা ভাত তুলে খাওয়াবে তার ওই হাত দিয়ে যত গুনা করেছে সেই সকল গুনাহগুলো আল্লাহ মাফ করে দেবেন। অপরূপভাবে যে স্ত্রী তার স্বামীকে এক লোকমা ভাত মুখে তুলে খাওয়াবে তারও সেই হাতের সকল গুনাহগুলো আল্লাহতালা মাফ করে দেবেন। সুবহানাল্লাহ এমনকি স্বামী স্ত্রীর মিলনের সময়টুকু আল্লাহতালা তাদের সওয়াব দিয়ে ভরিয়ে দেন।

তাহলে প্রিয় পাঠক আপনারা বুঝতে পারছেন যে স্বামী স্ত্রীর আদর ভালোবাসার মুহূর্ত গুলো কতটা প্রয়োজন। এবং তা আপনারা সঠিকভাবে থাকতে পারলে কতগুলো ছোয়াবে নিজেদের পাপকে ক্ষয় করতে পারেন। এছাড়াও আপনাদের স্বামী স্ত্রীর সংসার যদি সুন্দর ও দাম্পত্য জীবনকে সুখী করতে চান তাহলে অবশ্যই স্বামী-স্ত্রীর ভেতরে আদর ভালোবাসা থাকতে হবে। একে অপরকে আদর ভালবাসা দিতে হবে। তাই প্রত্যেকটি দাম্পত্য জীবনে স্বামী স্ত্রীর আদর ভালবাসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া দূর করার উপায়

প্রিয় বন্ধুরা আপনারা কি আপনাদের বৈবাহিক ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে অসুখী অতিষ্ঠ হয়ে আছেন। আপনাদের স্বামী-স্ত্রীর ভেতরে ঝগড়া লেগে আছে। প্রতিনিয়ত শেষ ঝগড়াগুলোকে নিয়ে আপনারা কি খুবই টেনশনে রয়েছেন। সেগুলো দূর করার কিছু উপায় বা টেকনিক রয়েছে। আপনারা যদি আপনাদের স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া দূর করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া দূর করার উপায় গুলো জানতে হবে।

স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া দূর করার উপায় হচ্ছে,

  • একে অপরের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।
  • স্বামী স্ত্রীর একে অপরের কাজে সাহায্য করা।
  • স্বামী স্ত্রীর সকল কাজে একে অপরের সাহায্য করার।
  • কেউ কারো সঙ্গে চেচিয়ে বা জোরে কথা বলবেন না।
  • একে অপরের কথা বোঝার চেষ্টা করবেন।
  • একে অপরকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
  • জীবনের সকল বিষয়ে একটি অপরকে অংশীদার করবেন।
  • স্বামী-স্ত্রী কেউ কারো কাছ থেকে নিজের গোপনীয় বিষয় কখনো লুকাবেন না।
  • জীবনের কোন খারাপ স্মৃতি থেকে থাকলে সেগুলো মীমাংসা করে ভুলে যাবেন।
  • একে অপরে ভুল বোঝাবুঝি হলে তা খুব শীঘ্রই মীমাংসা করে নেবেন। এবং নিজে সেই বিষয়টা ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করবেন।
  • স্বামী স্ত্রী কেউ কারো ওপরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবেন না।
  • নিজের স্বার্থে কখনো যেদা যেদি করবেন না।
  • কেউ কাউকে ছোট করে দেখবেন না। দুজনেই দুজনকে সমান অধিকার দেবেন। এবং নিজের অধিকার এর ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবেন।
  • স্বামী-স্ত্রী দুজনেই একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করবেন।
  • দুজন দুজনকে ভালোবাসবেন।
  • স্বামী স্ত্রীর দুজনাই একে অপরের সম্পর্কে অভিযোগ কম করার চেষ্টা করুন।
  • একে অপরকে ক্ষমা করুন।
  • স্ত্রীকে রান্না করার কাজে সাহায্য করুন।
  • ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে স্ত্রীকে সাহায্য করুন।
  • দুজনেই একে অপরকে ভালোভাবে সময় দিন

স্বামীর সাথে ঝগড়া করলে কি হয়

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ স্ত্রী তাদের স্বামীদের সঙ্গে ঝগড়া করে এবং সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা তাদের নিজের স্বার্থে তাদের স্বামীদের সঙ্গে সব সময় ঝগড়া অভিবাদ করে যায়। কিন্তু আপনারা হয়তো জানেন না যে স্বামীর সাথে ঝগড়া করলে আপনাদের পরিণতি কি হতে পারে। আপনারা যদি না জেনে থাকেন তাহলে অবশ্যই জেনে নিন স্বামীর সাথে ঝগড়া করলে কি হয়।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ স্বামী স্ত্রী এর ভেতরে যদি ভালো সম্পর্ক থাকে তাহলে তাদের প্রত্যেকটি সময়ের মূল্যে মহান আল্লাহতালা তাদের নেকি দ্বারা ভরিয়ে দেয়। অর্থাৎ যেই স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো থাকে ঝগড়া বিবাদ করে না তাদেরকে মহান রব্বুল আলামীন তাঁর অশেষ রহমত তাদের উপরে নাযিল করে এবং তাদেরকে খুব ভালোবাসে। আরো বলেছেন যে স্বামী স্ত্রী ঝগড়া করে যদি তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে মহান রাব্বুল আলামিনের আরশ পর্যন্ত কেঁপে ওঠে।

আরো পড়ুনঃ মেয়েদের সত্যিকারের ও মিথ্যা ভালোবাসা চেনার উপায় জানুন

এবং এর বেশি কারণ হচ্ছে মেয়েদের জন্য ঝগড়া হয়ে থাকে। একজন স্ত্রী যদি তার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে তাহলে তার ওপরে মহান রাব্বুল আলামিনের রহমত আসে না এবং তার ওপরে গজব ও গুনাহ নাযিল করা হয়। এবং সে ইহকাল ও পরকালে দুই জায়গাতেই অশান্তিতে ভুগবে। সে কোন কালেই শান্তি পাবে না। ইহকালে যেমন সে তার স্বামীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার দুর্ব্যবহার ও খারাপ আচরণ করে সব সময় স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে তাহলে সে তার স্বামীর আদর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হবে। এবং সে অনেক বিপদের মুখে পড়বে এই দুনিয়াতে।

এবং পরকালে সে স্বামীর কথা না শোনায় কবরের ভয়াবহ আজাব থেকে মুক্তি পাবে না। এবং হাশরের ময়দানে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে সে ধরা খেয়ে যাবে ও সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হয়ে সেই চির শাস্তি ভয়াবহ জাহান্নামের সকল শাস্তিতে ভুগবে। এবং কবরে সাপ-বিচ্ছু এবং নানান ধরনের পোকামাকড়ে কামড়াবে।

স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক | স্বামী স্ত্রীর আদর ভালোবাসা

প্রিয় বন্ধুরা আপনারা হয়তো জানেন না যে এই দুনিয়াতে পিতামাতার পরে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক হচ্ছে সব থেকে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। একজন পিতা-মাতা এরপরেই একজন স্ত্রী ও স্বামী তাদেরকে একে অপরকে সেরকম ভালবাসে। কারণ জীবনের সকল সুখ ও দুঃখের সঙ্গী হচ্ছে স্বামী স্ত্রী। তাদের জীবনের সকল চাহিদা পূরণে এবং স্বামী স্ত্রীর একে অপরের সেবা যত্নের জন্য স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা উচিত।

এবং সংসারের শান্তি ও দাম্পত্য জীবনকে সুখীময় করে তোলার জন্য স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সব থেকে বেশি প্রয়োজন। যেই স্বামী স্ত্রীর ভিতরে তাদের সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠ মহান রব্বুল আলামীন তাদের ওপরে ততই বেশি রহমত দান করেন ও খুশি থাকেন। এবং তাদের এই ঘনিষ্ঠময় সম্পর্কের সময় গুলোকে মহান রব্বুল আলামীন সওয়াব দ্বারা ভরিয়ে দেন। এবং তাদেরকে ইহকাল ও পরকালে সুখীময় ও শান্তিময় করে দেবেন।

স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক যত ভাল ও ঘনিষ্ঠ হবে ততই মহান রাব্বুল আলামিন খুশি হবেন। এবং স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক যদি খারাপ হয় এবং তাদের ভেতরে ঝগড়া ফ্যাসাদ হয় তাহলে শয়তান খুশি হন এবং মহান রব্বুল আলামীন নারাজ হন। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত নবী ও রাসূল যিনি মানব জাতির জন্য বার্তা বাহক। আমাদেরকে জাহান্নামের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এবং জান্নাতের অধিবাসী করার জন্য মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের কাছে তাকে প্রেরণ করেন।

আরো পড়ুনঃ পুরুষাঙ্গ বৃদ্ধির তেল এবং পুরুষাঙ্গে নারিকেলের তেল মাথার উপকারিতা জানুন

তিনি বলেছেন স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক সবসময় ঘনিষ্ঠ ও সুখীময় হওয়া উচিত। এবং একে অপরের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ভালো আচরণ ও একে অপরকে সময় দেওয়া। এবং নিজেদের মধ্যে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা। তাহলে মহান রাব্বুল আলামিন খুশি হবেন। তাই আমরা সবসময় চেষ্টা করব স্বামী-স্ত্রী ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার। কিন্তু এখন আপনারা বুঝতে পারছেন না যে কিভাবে নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলবেন। তাহলে চলুন জেনে নিন স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কিভাবে গড়ে তোলা যায়।

  • স্বামী স্ত্রী একে অপরকে খুব ভালবাসতে হবে।
  • নিজেদের ভেতরে যে কোন কারন হোক না কেন কখনো ঝগড়া করা যাবে না।
  • যে কোন ভুল ত্রুটি করলে দোষ স্বীকার করে নেওয়া এবং ক্ষমা চাওয়া।
  • স্বামী-স্ত্রী কেউ একে অপরের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন না।
  • স্বামী স্ত্রী একে অপরের ওর সাথে ভালো ব্যবহার করা।
  • একে অপরের সাথে ভদ্র আচরণ করা।
  • স্বামী স্ত্রী একে অপরকে বেশি করে সময় দেওয়ার চেষ্টা করবেন। কারণ সময় না দিলে কখনো নিজেদের ভেতরের সম্পর্কটা ঘনিষ্ট হয় না।
  • স্বামী স্ত্রী একে অপরের কাজে সাহায্য সহযোগিতা করবেন।
  • খাওয়া-দাওয়া করার সময় একে অপরকে খাইয়ে দেবেন।
  • স্বামী স্ত্রী একে অপরের এটা খাওয়ার খাবেন। কারণ একে অপরের এটা খেলে তাদের ভেতরের ভালোবাসা বেড়ে যায়।
  • স্বামী স্ত্রী একে অপরের গোপনীয় সকল কথা আলোচনা করা।
  • নিজেদের সুখ-দুঃখকে ভাগ করে নিবেন।
  • স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি সেবা যত্ন করলে তাদের ভালোবাসা ও সম্পর্কটা বেশি ঘনিষ্ট হবে।
  • স্বামী স্ত্রী কখনো একে অপরে জোড় গলায় উচ্চস্বরে এবং চোখ রাঙিয়ে কথা বলবেন না।
  • দুজনেই একে অপরের কথা মেনে ও সম্মান করে চলবেন।
  • স্বামী-স্ত্রী কখনো একে অপরের অধিকারের বেশি বাহিরে যাবেন না। নিজের অধিকারের ভিতরে সীমাবদ্ধ থাকুন।

শেষ কথা | স্বামী স্ত্রীর আদর ভালোবাসা

প্রিয় বন্ধুরা আশা করা যায় যে আপনারা এতক্ষণে নিশ্চয়ই আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ে স্বামী স্ত্রীর আদর ভালোবাসা ও স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিষয়ে এছাড়াও ছাড়া ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া দূর করার উপায় জানতে পেরেছেন। আপনারা অনেকেই জানতেন না যে স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক না থাকলে কি সমস্যা হয় এবং স্বামী-স্ত্রীর কথা না শুনলে তারা কি অবস্থায় করতো এ বিষয়ে জানতেন না। আশা করা যায় আপনারা সকলে এই বিষয়গুলো জেনেছেন।

এবং এই সকল তথ্যগুলো জেনে এখন আপনারা আপনাদের জীবনকে পরিবর্তন করতে পারবেন। এগুলো পরিবর্তন করে আপনারা ইহকাল ও পরকালের আজাব এর হাত থেকে রক্ষা পাবেন। তাহলে ফিরে পাঠক আর কথা না বাড়ি এখানেই শেষ করছি দেখা হবে পরবর্তী কোন আর্টিকেলে ততক্ষণ ভালো থাকবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আরাবি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url