/

কুকুর কামড়ালে কি করবেন | কুকুরের কামড়ে কোন রোগ ছড়ায় ও করণীয়

কুকুর মানুষের অন্যতম ঘনিষ্ঠ প্রাণী হলেও হঠাৎ পরিস্থিতিতে বা অসতর্ক আচরণের কারণে কুকুর কামড়ানোর ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। বিশেষ করে পথকুকুর, অপরিচিত বা অসুস্থ কুকুরের কামড় মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অনেকেই কুকুর কামড়কে হালকা বিষয় হিসেবে দেখেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা বা সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণে দেরি করেন, যার ফল হতে পারে ভয়াবহ। কুকুর কামড়ানোর মাধ্যমে কিছু মারাত্মক রোগ শরীরে সংক্রমিত হতে পারে, যার মধ্যে জলাতঙ্ক বা রেবিস সবচেয়ে বিপজ্জনক। 

তাই কুকুর কামড়ালে কী করবেন, কোন রোগ ছড়াতে পারে এবং কীভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখবেন—এসব বিষয়ে সঠিক ও বিস্তারিত জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই লেখায় আমরা কুকুর কামড়ানোর পর করণীয়, সম্ভাব্য রোগ, ঝুঁকি এবং প্রতিরোধের উপায় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করবো।

পেজ সূচিপত্রঃ  

কুকুর কামড়ালে প্রথমেই যা করবেন

কুকুর কামড়ানোর পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কামড় যত ছোটই হোক না কেন, সেটিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। প্রথম কাজ হলো কামড়ানো জায়গাটি পরিষ্কার করা। পরিষ্কার পানির নিচে ক্ষতস্থানটি অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। সম্ভব হলে সাবান ব্যবহার করে ধোয়া আরও ভালো, কারণ এতে ক্ষতস্থানে থাকা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়।

অনেকেই কামড়ানোর জায়গায় তেল, হলুদ, মাটি বা বিভিন্ন ঘরোয়া জিনিস লাগান, যা আসলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই কোনো ধরনের ঘরোয়া উপাদান না লাগিয়ে পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়েই ক্ষতস্থান পরিষ্কার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ক্ষতস্থানে কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়

কুকুর কামড়ানোর পর ক্ষতস্থানে হালকা রক্তপাত হওয়া স্বাভাবিক। অনেক ক্ষেত্রে রক্তপাত বন্ধ করার জন্য শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয়, কিন্তু এটি সবসময় সঠিক নয়। হালকা রক্তপাত হলে কিছুক্ষণ পানি দিয়ে ধোয়ার পর নিজে নিজেই বন্ধ হতে দেওয়া ভালো, কারণ এতে ক্ষতস্থানের ভেতরের জীবাণু বের হয়ে যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত রক্তপাত হলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে হালকা চাপ দেওয়া যেতে পারে। 

কামড়ানো জায়গায় কোনোভাবেই আগুনে ঝলসানো, ব্লেড দিয়ে কাটা বা শক্ত করে সেলাই করা উচিত নয়, যদি না চিকিৎসক তা নির্দেশ দেন। পরিষ্কার করার পর দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

কুকুর কামড়ালে কেন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে

অনেক মানুষ মনে করেন, কুকুর যদি পোষা হয় বা দেখতে সুস্থ লাগে, তাহলে ডাক্তার দেখানোর প্রয়োজন নেই। এটি একটি মারাত্মক ভুল ধারণা। কুকুরের শরীরে রেবিস ভাইরাস থাকলেও অনেক সময় বাহ্যিকভাবে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তাই কুকুর কামড়ানোর পর যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসক ক্ষতের ধরন, কামড়ের গভীরতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা বা চিকিৎসা নির্ধারণ করবেন। সময়মতো চিকিৎসা নিলে প্রাণঘাতী রোগ থেকেও সহজে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। কুকুর কামড়ালে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ কামড়ের মাধ্যমে জীবাণু ও ভাইরাস, যেমন রেবিস (জলাতঙ্ক) এবং ব্যাকটেরিয়া, শরীরে প্রবেশ করতে পারে। একবার রেবিসের লক্ষণ প্রকাশ পেলে এটি প্রায় শাশ্বত এবং প্রাণঘাতী। 

ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও হতে পারে, যা ফুলে যাওয়া, পুঁজ বা সেপসিসের কারণ হয়। দ্রুত ডাক্তার দেখালে ক্ষত সঠিকভাবে পরিষ্কার করা, প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা, অ্যান্টিবায়োটিক ও টিটেনাস প্রতিষেধক দেওয়া সম্ভব হয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে জটিলতা বৃদ্ধি পায় এবং জীবন ঝুঁকিতে পড়ে। তাই কুকুর কামড়ানোর পর অবিলম্বে চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ ও সঠিক পদক্ষেপ।

কুকুর কামড়ালে কোন কোন রোগ ছড়াতে পারে

কুকুর কামড়ানোর মাধ্যমে একাধিক রোগ মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। এসব রোগের মধ্যে কিছু সাধারণ হলেও কিছু রোগ অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী। তাই এসব রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কুকুর কামড়ালে মানুষের শরীরে একাধিক মারাত্মক রোগ ছড়াতে পারে, যার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হলো জলাতঙ্ক। এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা কুকুরের লালার মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং একবার লক্ষণ প্রকাশ পেলে প্রায় নিশ্চিত মৃত্যু ঘটায়। এছাড়া কুকুর কামড়ালে টিটেনাস (ধনুষ্টঙ্কার) হওয়ার ঝুঁকিও থাকে, যা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া ও খিঁচুনির সৃষ্টি করে। কুকুরের মুখে থাকা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ক্ষতের মাধ্যমে ঢুকে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন, পুঁজ, জ্বর ও তীব্র ব্যথার কারণ হতে পারে। 

কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেপসিস বা রক্তে সংক্রমণও ঘটতে পারে, যা প্রাণঘাতী। এমনকি কুকুরের আঁচড় বা লালা খোলা ক্ষতে লাগলেও এসব রোগের ঝুঁকি থাকে। তাই কুকুর কামড়কে কখনোই হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয় এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

জলাতঙ্ক সবচেয়ে ভয়ংকর রোগ

কুকুর কামড়ালে যে রোগটির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে ভয়ংকর, সেটি হলো জলাতঙ্ক বা রেবিস। এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা কুকুরের লালা বা কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। একবার রেবিসের লক্ষণ প্রকাশ পেলে এই রোগের কোনো চিকিৎসা নেই এবং এটি প্রায় শতভাগ মৃত্যুর কারণ হয়। শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, কামড়ের জায়গায় জ্বালা বা চুলকানি হতে পারে। পরে পানি দেখলে ভয়, গিলতে কষ্ট, অস্থিরতা ও স্নায়বিক সমস্যার মাধ্যমে রোগটি মারাত্মক আকার ধারণ করে। তবে আশার কথা হলো, কামড়ের পর দ্রুত টিকা নিলে রেবিস পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

টিটেনাস বা ধনুষ্টঙ্কার

টিটেনাস বা ধনুষ্টঙ্কার একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা কুকুর কামড়ানোর মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। কুকুর কামড়ালে ত্বকে যে ক্ষত তৈরি হয়, সেই ক্ষতের ভেতর দিয়ে Clostridium tetani নামক ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে। এই ব্যাকটেরিয়া এক ধরনের বিষাক্ত টক্সিন তৈরি করে, যা স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত হানে। টিটেনাস হলে প্রথমে চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়া, মুখ খুলতে সমস্যা, ঘাড় ও শরীরের পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। পরবর্তীতে খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট এবং মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা মৃত্যুর কারণও হতে পারে। যাদের নিয়মিত টিটেনাস টিকা নেওয়া নেই বা শেষ টিকা নেওয়ার সময় অনেক বছর পেরিয়ে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। তাই কুকুর কামড়ালে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজন হলে টিটেনাস টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ও ক্ষত সংক্রমণ

কুকুরের মুখে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এর ফলে ক্ষতস্থান ফুলে যাওয়া, লালচে ভাব, পুঁজ বের হওয়া, জ্বর ও তীব্র ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় এই সংক্রমণ ছড়িয়ে গিয়ে মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করে। তাই কুকুর কামড়ানোর ক্ষতকে হালকা ভাবা উচিত নয় এবং প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে, যা কেবল চিকিৎসকের পরামর্শেই গ্রহণ করা উচিত। ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ও ক্ষত সংক্রমণ কুকুর কামড়ানোর একটি সাধারণ কিন্তু গুরুতর জটিলতা। কুকুরের মুখে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকে, যেমন Staphylococcus, StreptococcusPasteurella প্রজাতি। 

কুকুর কামড়ালে এই ব্যাকটেরিয়াগুলো ক্ষতের ভেতর প্রবেশ করে সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে ক্ষতস্থান লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে ওঠা, তীব্র ব্যথা, পুঁজ বের হওয়া এবং জ্বর দেখা দিতে পারে। অনেক সময় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে গিয়ে আশপাশের টিস্যু ও রক্তে প্রবেশ করে মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করে, যাকে সেপসিস বলা হয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী, শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি। তাই কুকুর কামড়ানোর পর ক্ষত ভালোভাবে পরিষ্কার করা, অবহেলা না করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কুকুর আঁচড় বা লালা লাগলেও কি ঝুঁকি আছে

অনেকেই ভাবেন, শুধু কামড়ালেই সমস্যা, আঁচড় বা লালা লাগলে তেমন কিছু হয় না। বাস্তবে কুকুরের নখের আঁচড় বা লালা যদি খোলা ক্ষতের সঙ্গে লাগে, সেখান থেকেও রেবিসসহ অন্যান্য সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই কুকুরের আঁচড় লাগলেও ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যদি আঁচড়ের জায়গা দিয়ে রক্ত বের হয়, তাহলে এটিকে কামড়ের মতোই গুরুত্ব দিতে হবে। অনেকেই মনে করেন কুকুর কামড়ালেই শুধু ঝুঁকি থাকে, কিন্তু বাস্তবে কুকুরের আঁচড় বা লালা লাগলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকতে পারে। কুকুরের নখে ও লালায় বিভিন্ন জীবাণু ও ভাইরাস থাকতে পারে, যা মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম। 

যদি কুকুরের আঁচড়ে ত্বক কেটে যায় বা রক্ত বের হয়, তাহলে সেই ক্ষতের মাধ্যমে রেবিস (জলাতঙ্ক) ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে। একইভাবে কুকুরের লালা যদি খোলা ক্ষত, চোখ, মুখ বা নাকে লাগে, তাহলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয়ে ক্ষত ফুলে যাওয়া, ব্যথা ও পুঁজ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। তাই কুকুরের আঁচড় বা লালা লাগলেও ক্ষতস্থান ভালোভাবে সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কুকুর কামড়ানোর পর টিকা নেওয়ার গুরুত্ব

কুকুর কামড়ানোর পর টিকা নেওয়া জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। চিকিৎসক সাধারণত পরিস্থিতি অনুযায়ী রেবিস প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই টিকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কয়েকটি ডোজে দেওয়া হয়, যা শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। অনেকেই টিকা নেওয়া শুরু করলেও মাঝপথে বন্ধ করে দেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করাই একমাত্র নিরাপদ পথ। কুকুর কামড়ানোর পর টিকা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রাণঘাতী রোগ রেবিস (জলাতঙ্ক) এবং অন্যান্য সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। কুকুরের লালা বা কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে, এবং একবার রেবিসের লক্ষণ প্রকাশ পেলে চিকিৎসা করা প্রায় অসম্ভব এবং মৃত্যুর ঝুঁকি ১০০%। 

তাই কামড়ের পর প্রাথমিক পরিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখানো এবং রেবিস প্রতিষেধক টিকা নেওয়া জরুরি। টিকার মাধ্যমে শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, ফলে সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব হয়। এছাড়া ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে অ্যান্টিবডি ইমিউনোগ্লোবুলিন (RIG) ও টিটেনাস টিকা দিতে পারেন, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও কমায়। সময়মতো টিকা নিলে শুধু জীবন রক্ষা হয় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও কমে। তাই কুকুর কামড়ানোকে কখনো হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে কুকুর কামড়ানোর ঝুঁকি আরও বেশি। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম এবং তারা অনেক সময় ভয় পেয়ে সঠিকভাবে ঘটনা জানাতে পারে না। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও ক্ষত সেরে উঠতে সময় বেশি লাগে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই শিশু বা বয়স্ক কেউ কুকুরের দ্বারা কামড়ালে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি এবং কোনো ধরনের অবহেলা করা উচিত নয়। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে কুকুর কামড়ানোর পর বাড়তি সতর্কতা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম। শিশুদের ত্বক নরম এবং পুরুত্ব কম হওয়ায় কুকুর কামড় বা আঁচড়ে সহজে গভীর ক্ষত তৈরি হতে পারে। 

এছাড়া শিশু অনেক সময় ভয় পেয়ে বা ব্যথা অনুভব করেও ঘটনা সঠিকভাবে জানাতে পারে না, যা চিকিৎসা গ্রহণে বিলম্ব ঘটায়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে ক্ষত সেরে ওঠার ক্ষমতা কম থাকে, এবং সংক্রমণ, টিটেনাস বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই শিশু বা বয়স্ক কেউ কুকুরের দ্বারা কামড়ালে ক্ষত দ্রুত পরিষ্কার করা, দ্রুত ডাক্তার দেখানো এবং প্রয়োজনীয় টিকা ও অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা জরুরি। সতর্কতা অবলম্বন করলে মারাত্মক জটিলতা ও প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়। নিয়মিত নজরদারি ও সতর্ক আচরণ জীবন রক্ষা করতে সহায়তা করে।

কুকুর কামড়ানো থেকে নিজেকে কীভাবে নিরাপদ রাখবেন

কুকুর কামড়ানো এড়াতে কিছু সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অপরিচিত বা পথকুকুরকে উত্যক্ত না করা, খাবার খাওয়ার সময় বা ঘুমের সময় কুকুরকে বিরক্ত না করা, হঠাৎ দৌড়ে পালানো বা চিৎকার না করা—এসব বিষয় মাথায় রাখা উচিত। শিশুদের কুকুরের সঙ্গে আচরণ শেখানো অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি আশপাশে যদি কোনো কুকুর অস্বাভাবিক আচরণ করে বা আক্রমণাত্মক মনে হয়, তাহলে দূরে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ। কুকুর কামড়ানো থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা মূলত সচেতনতা ও সঠিক আচরণের ওপর নির্ভর করে। প্রথমে, অপরিচিত বা পথকুকুরকে ঘনিষ্ঠভাবে স্পর্শ করা না করে এড়িয়ে চলা জরুরি। কুকুর যখন খেতে, ঘুমাচ্ছে বা তার পোষ্যবস্তুর কাছে থাকে, তখন হঠাৎ ছোঁড়া বা চিৎকার করা এড়িয়ে চলতে হবে। শিশুদের কুকুরের সঙ্গে নিরাপদ আচরণ শেখানো উচিত, যেমন হঠাৎ দৌড়ানো বা 

কুকুরকে বিরক্ত না করা। যদি কোনো কুকুর আক্রমণাত্মক মনে হয়, দূরে থাকা এবং চোখে চোখ না দেওয়াই নিরাপদ। রাস্তার পথে চলাচল বা খোলা জায়গায় কুকুরের উপস্থিতি লক্ষ্য করে সতর্ক থাকা জরুরি। এছাড়া কুকুরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা নিশ্চিত করা, যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নিজে সুরক্ষার জন্য হাত ও পোশাক ব্যবহার করা নিরাপত্তা বাড়ায়। সচেতনতা ও নিয়মিত সতর্কতা কুকুর কামড়ানো ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

লেখকের মন্তব্য

কুকুর কামড়ানো একটি সাধারণ ঘটনা হলেও এর পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ, যদি সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। কুকুর কামড়ালে দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ—এই তিনটি বিষয় কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। একই সঙ্গে কুকুর কামড়ালে কোন রোগ ছড়ায়, বিশেষ করে জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকা জীবন বাঁচাতে পারে। সঠিক জ্ঞান, দ্রুত পদক্ষেপ এবং সচেতন আচরণই কুকুর কামড়ানোর ঝুঁকি ও ক্ষতি থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে নিরাপদ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আরাবি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪