/

ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়া কোন রোগের লক্ষণ? কারণ ও স্বাস্থ্য তথ্য

গরম পানির সাথে লেবু খাওয়ার উপকারিতাঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়া অনেকের কাছেই একটি সাধারণ ও লজ্জাজনক সমস্যা মনে হলেও বাস্তবে এটি শরীরের ভেতরের নানা শারীরিক অবস্থা, অভ্যাস এবং কিছু ক্ষেত্রে রোগের লক্ষণও হতে পারে। ঘুমের সময় মুখ দিয়ে লালা পড়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় “নকটার্নাল ড্রুলিং” বলা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের লালাগ্রন্থি দিনে ও রাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ লালা উৎপন্ন করে, যা মুখের ভেতর আর্দ্রতা বজায় রাখে, খাবার হজমে সাহায্য করে এবং মুখগহ্বরকে জীবাণু থেকে রক্ষা করে। 

কিন্তু যখন এই লালা মুখের ভেতরে না থেকে ঘুমের সময় বাইরে বের হয়ে আসে, তখন বিষয়টি অস্বস্তিকর হওয়ার পাশাপাশি কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিতও দিতে পারে। তাই ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়া কোন রোগের লক্ষণ—এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই আসে এবং এটি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পেজ সূচিঃ 

মুখ দিয়ে লালা পড়ার কারন কি?

ঘুমের ভঙ্গি হলো ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে লালা পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি। যারা পাশ ফিরে বা উপুড় হয়ে ঘুমান, তাদের মুখ স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা খোলা থাকে। এর ফলে লালা সহজেই মুখের এক পাশ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ ক্ষেত্রে এটি কোনো রোগের লক্ষণ নয়, বরং একটি অভ্যাসগত বিষয়। তবে যদি দেখা যায় যে ঘুমের ভঙ্গি পরিবর্তন করার পরও নিয়মিত মুখ দিয়ে লালা পড়ছে, তখন বিষয়টি অন্য কারণের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। বিশেষ করে যারা চিৎ হয়ে ঘুমালেও মুখ দিয়ে লালা পড়েন, তাদের ক্ষেত্রে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে অসুবিধা বা মুখ খোলা রেখে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস থাকতে পারে।

নাক বন্ধ থাকা বা নাক দিয়ে শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়াও ঘুমের মধ্যে লালা পড়ার একটি বড় কারণ। সর্দি, সাইনাসের সমস্যা, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, নাকের পলিপ বা নাকের হাড় বাঁকা (ডেভিয়েটেড ন্যাজাল সেপ্টাম) হলে মানুষ বাধ্য হয়ে মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়। মুখ খোলা থাকলে লালা ধরে রাখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং ঘুমের সময় লালা বাইরে পড়ে যায়। এ ধরনের ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে লালা পড়া কোনো নির্দিষ্ট রোগের সরাসরি লক্ষণ না হলেও নাক ও শ্বাসনালীর সমস্যার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হতে পারে। দীর্ঘদিন এ সমস্যা চলতে থাকলে অবশ্যই নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। 

মুখ দিয়ে লালা পড়া কোন রোগের লক্ষন?

ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়া কখনো কখনো দাঁত ও মুখগহ্বরের সমস্যার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। দাঁতে ক্ষয়, মাড়ির প্রদাহ (জিনজিভাইটিস), মুখের ভেতরে ঘা বা সংক্রমণ থাকলে লালার পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে। শরীর তখন প্রাকৃতিকভাবে বেশি লালা তৈরি করে মুখের ভেতরের সংক্রমণ বা জ্বালা কমানোর চেষ্টা করে। অতিরিক্ত লালা উৎপন্ন হলে ঘুমের সময় তা মুখে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং লালা গড়িয়ে বাইরে চলে আসে। তাই নিয়মিত মুখ দিয়ে লালা পড়া দাঁতের রোগের লক্ষণ কি না, সেটিও ভেবে দেখা জরুরি।

কিছু ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে লালা পড়া স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণ হিসেবেও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যারা স্ট্রোক, পারকিনসন রোগ, সেরিব্রাল পালসি বা অন্য কোনো স্নায়ুজনিত রোগে আক্রান্ত, তাদের মুখের পেশির নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে। এর ফলে লালা গিলে ফেলার স্বাভাবিক ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং লালা মুখের বাইরে পড়ে। যদিও শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, তবে তরুণ বয়সেও যদি হঠাৎ করে অতিরিক্ত লালা পড়ার সমস্যা শুরু হয় এবং তার সঙ্গে কথা বলতে অসুবিধা, মুখ বেঁকে যাওয়া বা শরীরের কোনো অংশ দুর্বল লাগার মতো উপসর্গ থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়া কখনো কখনো গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা জিইআরডি-এর লক্ষণও হতে পারে। এই সমস্যায় পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীর দিকে উঠে আসে, যা মুখের ভেতরে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। শরীর এই অ্যাসিডের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে বেশি লালা উৎপন্ন করে। বিশেষ করে রাতে শোয়ার পর অ্যাসিড রিফ্লাক্স বাড়লে লালার পরিমাণও বেড়ে যায় এবং মুখ দিয়ে লালা পড়তে পারে। যদি ঘুমের মধ্যে লালা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুক জ্বালাপোড়া, টক ঢেকুর বা গলায় অস্বস্তি অনুভূত হয়, তাহলে এটি জিইআরডি-এর ইঙ্গিত হতে পারে।

মুখ দিয়ে লালা পড়ার ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ঘুমের সময় মুখ দিয়ে লালা পড়তে পারে। বিশেষ করে কিছু মানসিক রোগের ওষুধ, অ্যালার্জির ওষুধ বা স্নায়ুতে প্রভাব ফেলে এমন ওষুধ লালার উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় বা গিলে ফেলার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন এবং হঠাৎ করে এই সমস্যার সম্মুখীন হন, তাদের ক্ষেত্রে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

শিশুদের ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে লালা পড়া অনেক সময় স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়, বিশেষ করে ছোট বয়সে দাঁত ওঠার সময় বা গভীর ঘুমে। তবে বড় শিশুদের ক্ষেত্রে যদি নিয়মিতভাবে লালা পড়তে থাকে, তাহলে টনসিল বড় হওয়া, নাক দিয়ে শ্বাস নিতে সমস্যা বা মুখের পেশির দুর্বলতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। একইভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমে গেলে লালা পড়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।

ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়া সব সময় কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়, তবে এটিকে সম্পূর্ণ অবহেলা করাও ঠিক নয়। যদি এই সমস্যাটি মাঝেমধ্যে হয় এবং কোনো অন্য উপসর্গ না থাকে, তাহলে সাধারণ অভ্যাসগত কারণেই হতে পারে। কিন্তু যদি প্রতিদিন ঘুমের পর বালিশ ভিজে যায়, মুখের চারপাশে লালচে ভাব দেখা দেয়, দুর্গন্ধ হয় বা এর সঙ্গে অন্য শারীরিক সমস্যা যুক্ত থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় অনেক রোগের লক্ষণ খুব সামান্য হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়লে করণীয় কী কী

ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়া অনেক সময় স্বাভাবিক হলেও নিয়মিত হলে এটি অস্বস্তিকর ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়লে করণীয় কী কী—এ বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। নিচে সহজ ও কার্যকর করণীয়গুলো ব্যাখ্যা করা হলো, যা অনুসরণ করলে এ সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

প্রথমত, ঘুমের ভঙ্গি পরিবর্তন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিৎ হয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলে মুখ খোলা থাকার প্রবণতা কমে এবং লালা বাইরে পড়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। দ্বিতীয়ত, নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সর্দি, অ্যালার্জি বা সাইনাসের সমস্যা থাকলে তা দ্রুত চিকিৎসা করা প্রয়োজন, কারণ নাক বন্ধ থাকলে মানুষ মুখ দিয়ে শ্বাস নেয় এবং লালা পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

তৃতীয়ত, মুখ ও দাঁতের পরিচর্যায় নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করা, জিহ্বা পরিষ্কার রাখা এবং মাড়ির সমস্যা থাকলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চতুর্থত, রাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত ঝাল, তেলযুক্ত খাবার ও বেশি পানি পান এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ এতে লালা উৎপাদন বাড়তে পারে।

যদি নিয়মিত ও অতিরিক্তভাবে ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে লালা পড়ে এবং এর সঙ্গে বুক জ্বালাপোড়া, নাক দিয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট বা স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সঠিক অভ্যাস ও সময়মতো চিকিৎসাই এই সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়া সুবিধা

ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়া সাধারণত একটি বিরক্তিকর সমস্যা হিসেবে দেখা হলেও অনেকেই জানেন না যে কিছু ক্ষেত্রে এর কিছু উপকারিতা বা সুবিধাও থাকতে পারে। তাই ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়ার সুবিধা কী—এই বিষয়টি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের জন্য জানা জরুরি। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে বোঝা যায়, এটি সব সময় ক্ষতিকর নয়।

প্রথমত, মুখ দিয়ে লালা পড়া শরীরে পর্যাপ্ত লালা উৎপাদনের একটি লক্ষণ হতে পারে। লালা মুখগহ্বরকে আর্দ্র রাখে, দাঁত ও মাড়িকে ব্যাকটেরিয়ার ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে। যাদের মুখে স্বাভাবিকের চেয়ে কম লালা তৈরি হয়, তাদের তুলনায় যাদের লালা পড়ার প্রবণতা আছে, তাদের মুখ শুষ্ক হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত লালা অনেক সময় হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। লালায় থাকা এনজাইম খাবার ভাঙতে সাহায্য করে এবং গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের প্রভাব কিছুটা কমাতে পারে। বিশেষ করে রাতে পাকস্থলীর অস্বস্তি কমাতে শরীর স্বাভাবিকভাবে লালা উৎপাদন বাড়ায়, যা একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা।

তৃতীয়ত, ঘুমের সময় মুখ দিয়ে লালা পড়া অনেক ক্ষেত্রে গভীর ও স্বস্তিদায়ক ঘুমের ইঙ্গিত হতে পারে। গভীর ঘুমে শরীরের পেশি শিথিল হয়, ফলে লালা গিলে ফেলার হার কমে যায়। এটি মানসিক চাপ কম থাকারও একটি পরোক্ষ লক্ষণ হতে পারে।

ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়া অসুবিধা

ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়া অনেকের কাছে সামান্য সমস্যা মনে হলেও বাস্তবে এটি দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যের ওপর বিভিন্ন অসুবিধা ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়ার অসুবিধা কী—এই বিষয়টি জানা স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত এ সমস্যা হলে একে অবহেলা না করাই ভালো।

প্রথমত, মুখ দিয়ে লালা পড়ার ফলে ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় লালা মুখের চারপাশে লেগে থাকলে ঠোঁট ও গালের চামড়া শুষ্ক হয়ে যাওয়া, লালচে ভাব, চুলকানি এমনকি র‍্যাশ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

দ্বিতীয়ত, মুখ দিয়ে লালা পড়া মুখের দুর্গন্ধ বাড়াতে পারে। লালায় থাকা ব্যাকটেরিয়া বালিশ ও মুখের চারপাশে জমে গিয়ে বাজে গন্ধ তৈরি করে, যা ব্যক্তিগত অস্বস্তি ও সামাজিক সংকোচের কারণ হতে পারে।

তৃতীয়ত, নিয়মিত লালা পড়া কিছু রোগের লক্ষণ হলেও অনেক সময় তা অজান্তেই উপেক্ষিত হয়। নাক দিয়ে শ্বাস নিতে সমস্যা, সাইনাস, দাঁত ও মাড়ির রোগ, গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বা স্নায়বিক জটিলতার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে এটি দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়ার চিকিৎসা

ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়া যদি নিয়মিত ও অতিরিক্ত মাত্রায় হয়, তাহলে এটি অস্বস্তিকর হওয়ার পাশাপাশি কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়ার চিকিৎসা কী—এই বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি। সমস্যার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

প্রথমেই ঘুমের অভ্যাস ও ভঙ্গি ঠিক করা চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চিৎ হয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলে মুখ খোলা থাকার প্রবণতা কমে এবং লালা পড়াও কমে যায়। পাশাপাশি নাক দিয়ে শ্বাস নিতে সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা করা প্রয়োজন। সর্দি, সাইনাস বা অ্যালার্জির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস কমে আসে।

দাঁত ও মাড়ির সমস্যাজনিত কারণে লালা পড়লে ডেন্টাল চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ, জিহ্বা পরিষ্কার এবং প্রয়োজন হলে ডেন্টিস্টের চিকিৎসা নেওয়া উচিত। গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে রাতের খাবার হালকা রাখা, সময়মতো খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করলে লালা পড়া কমতে পারে।

যদি স্নায়বিক কোনো সমস্যার কারণে অতিরিক্ত লালা পড়া দেখা দেয়, তাহলে নিউরোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজন। সবশেষে বলা যায়, ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়ার চিকিৎসা নির্ভর করে মূল কারণের ওপর, তাই নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।

পেজের শেষ কথা 

ঘুমানোর পর মুখ দিয়ে লালা পড়া একটি সাধারণ কিন্তু বহুমাত্রিক সমস্যা। এটি যেমন ঘুমের ভঙ্গি ও দৈনন্দিন অভ্যাসের কারণে হতে পারে, তেমনি নাক-কান-গলার সমস্যা, দাঁতের রোগ, হজমের সমস্যা বা স্নায়বিক রোগের লক্ষণও হতে পারে। নিজের শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন হলে সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সুস্থ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায়। এই বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা থাকলে অযথা ভয় না পেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আরাবি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪