নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার | Nose Bleeding সম্পর্কে জানুন ।
নাকের ভেতরের গঠন নাক দিয়ে রক্ত পড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। নাকের ভেতরের সামনের অংশে অসংখ্য ছোট ছোট রক্তনালি বা ক্যাপিলারি থাকে, যেগুলো খুবই সংবেদনশীল। সামান্য আঘাত, শুষ্কতা বা চাপেই এই রক্তনালিগুলো ফেটে যেতে পারে। বিশেষ করে নাকের সামনে থাকা কিসেলবাখ প্লেক্সাস নামের অংশটি সবচেয়ে বেশি রক্তপাতের জন্য দায়ী। এই কারণেই বেশিরভাগ নাক দিয়ে রক্ত পড়ার ঘটনা সামনের দিক থেকেই শুরু হয় এবং সাধারণত সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এপিস্ট্যাক্সিস একটি বেশ পরিচিত কিন্তু অনেক সময় ভীতিকর সমস্যা। হঠাৎ করে নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করলে আতঙ্কিত হয়ে পড়া স্বাভাবিক, বিশেষ করে শিশু,

বয়স্ক বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে। যদিও বেশিরভাগ সময় নাক দিয়ে রক্ত পড়া গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয়, তবুও এর পেছনের কারণগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ বুঝতে পারলে সঠিক প্রতিকার নেওয়া সহজ হয় এবং অপ্রয়োজনীয় ভয়ও কমে যায়। এই আর্টিকেলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রধান কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা, লক্ষণ, প্রাথমিক করণীয় এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
পেজ সূচিপত্রঃ
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ?
নাক দিয়ে রক্ত পড়া একটি সাধারণ কিন্তু ভীতিকর সমস্যা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এপিস্ট্যাক্সিস নামে পরিচিত। নাকের ভেতরের অংশে অসংখ্য সূক্ষ্ম রক্তনালি থাকে, যেগুলো খুবই সংবেদনশীল। সামান্য আঘাত, শুষ্কতা বা চাপ পড়লেই এসব রক্তনালি ফেটে গিয়ে রক্তপাত হতে পারে। বিশেষ করে শীতকাল বা শুষ্ক আবহাওয়ায় নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা ঝিল্লি শুকিয়ে যায়, ফলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। নাক খোঁটা বা জোরে নাক পরিষ্কার করাও নাক দিয়ে রক্ত পড়ার একটি বড় কারণ। এতে নাকের ভেতরের নরম চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রক্তপাত শুরু হয়।
এছাড়া সর্দি, কাশি বা অ্যালার্জির সময় বারবার নাক ঝাড়ার কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে রক্তনালির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। নাক বা মুখে আঘাত লাগা, দুর্ঘটনা বা খেলাধুলার সময় চোট পাওয়ার কারণেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। কিছু ওষুধ যেমন রক্ত পাতলা করার ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন করলে রক্তপাতের প্রবণতা বেড়ে যায়। এছাড়া রক্তজনিত রোগ, লিভার বা কিডনির সমস্যা এবং হরমোনজনিত পরিবর্তনও নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ হতে পারে। তাই বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার লক্ষণ ?
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার লক্ষণ সাধারণত সহজেই বোঝা যায়, তবে এর ধরন ও তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ হলো হঠাৎ নাকের এক পাশ বা উভয় পাশ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকা। অনেক সময় রক্তপাত সামান্য হলেও কখনো কখনো তা দ্রুত ও বেশি পরিমাণে হতে পারে। নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সময় মুখে লোহার মতো রক্তের স্বাদ পাওয়াও একটি সাধারণ লক্ষণ, বিশেষ করে যখন রক্ত গলার দিকে চলে যায়। কিছু ক্ষেত্রে নাকের ভেতর জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে, যা রক্তপাতের পূর্ব লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। রক্ত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনুভূতিও হতে পারে, কারণ জমাট বাঁধা রক্ত নাকের পথ আটকে দেয়। যদি রক্তপাত বেশি সময় ধরে চলতে থাকে,

তাহলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ক্লান্তি বা হালকা বমি ভাব দেখা দিতে পারে। অনেক সময় নাক দিয়ে রক্ত পড়ার পাশাপাশি মাথাব্যথা, উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ বা সর্দি-কাশির উপসর্গও থাকতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়ে আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করা একটি সাধারণ দৃশ্য। যদি বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়ে, এক পাশ দিয়েই বেশি রক্তপাত হয়, বা রক্ত সহজে বন্ধ না হয়, তাহলে তা গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
শুষ্ক আবহাওয়া কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়া
শুষ্ক আবহাওয়া নাক দিয়ে রক্ত পড়ার একটি খুব সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। শীতকাল বা অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক পরিবেশে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যায়, যার প্রভাব সরাসরি নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা ঝিল্লির ওপর পড়ে। স্বাভাবিক অবস্থায় নাকের ভেতর আর্দ্রতা থাকে, যা শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাসকে উষ্ণ ও পরিশোধিত রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু শুষ্ক আবহাওয়ায় এই আর্দ্রতা কমে গেলে নাকের ভেতরের ত্বক শুকিয়ে যায় এবং সহজেই ফেটে যেতে পারে। নাকের ভেতরের অংশে থাকা সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল। শুষ্কতার কারণে এসব রক্তনালি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
সামান্য নাক খোঁটা, জোরে নাক ঝাড়া বা হাঁচির চাপেও রক্তনালি ফেটে গিয়ে রক্তপাত শুরু হতে পারে। অনেক সময় শুষ্কতার কারণে নাকের ভেতর চুলকানি ও জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়, যা নাক খোঁটার প্রবণতা বাড়ায় এবং রক্ত পড়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এয়ার কন্ডিশন, হিটার বা ফ্যানের নিচে দীর্ঘ সময় থাকার কারণেও নাকের ভেতরের আর্দ্রতা নষ্ট হয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাব বেশি দেখা যায়। তাই শুষ্ক পরিবেশে নাক দিয়ে রক্ত পড়া এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করা, ঘরের ভেতর আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে স্যালাইন স্প্রে ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার নাক দিয়ে রক্ত পড়া
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার নাক দিয়ে রক্ত পড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সাধারণভাবে উচ্চ রক্তচাপ সরাসরি নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ না হলেও, দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে রক্তনালিগুলো দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং সামান্য কারণেই ফেটে গিয়ে রক্তপাত শুরু হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে নাক দিয়ে রক্ত পড়া অনেক সময় হঠাৎ ও বেশি পরিমাণে হয় এবং তা বন্ধ করতেও তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়, কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। অনেক সময় হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়া উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার একটি সতর্ক সংকেত হিসেবেও কাজ করে।
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সময় উচ্চ রক্তচাপ থাকলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা বা বুক ধড়ফড় করার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এ ধরনের অবস্থায় শুধু রক্তপাত বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়, বরং দ্রুত রক্তচাপ পরিমাপ করা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন, লবণ কম খাওয়া ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন উচ্চ রক্তচাপজনিত নাক দিয়ে রক্ত পড়ার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হরমোনজনিত পরিবর্তনও নাক দিয়ে রক্ত পড়া
হরমোনজনিত পরিবর্তনও নাক দিয়ে রক্ত পড়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হতে পারে। শরীরের হরমোনের ওঠানামা রক্ত সঞ্চালন ও রক্তনালির সংবেদনশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে নাকের ভেতরের রক্তনালিগুলো প্রসারিত ও বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় সামান্য চাপ বা শুষ্কতার কারণেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। কৈশোরকালেও হরমোনের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে কিছু কিশোর-কিশোরীর নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রবণতা দেখা যায়।
এ সময় শরীরের রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায় এবং রক্তনালিগুলো তুলনামূলকভাবে নাজুক থাকে। এছাড়া মাসিক চক্রের সময় কিছু নারীর শরীরে হরমোনের ভারসাম্য পরিবর্তনের ফলে নাকের শ্লেষ্মা ঝিল্লি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, যা রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। থাইরয়েডজনিত সমস্যার ক্ষেত্রেও হরমোনের অসামঞ্জস্য দেখা দেয়, যা রক্তচাপ ও রক্তনালির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। যদিও হরমোনজনিত কারণে হওয়া নাক দিয়ে রক্ত পড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গুরুতর নয় এবং সাময়িক হয়, তবুও যদি বারবার বা অস্বাভাবিকভাবে রক্তপাত হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখাই এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি কমানোর প্রধান উপায়।
অ্যালার্জি ও সর্দি-কাশিও নাক দিয়ে রক্ত পড়া
অ্যালার্জি ও সর্দি-কাশি নাক দিয়ে রক্ত পড়ার একটি সাধারণ কারণ হিসেবে পরিচিত। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা দীর্ঘদিনের সর্দি-কাশির ফলে নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা ঝিল্লি বারবার উত্তেজিত ও প্রদাহগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এর কারণে নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো দুর্বল হয়ে যায় এবং সামান্য চাপেই ফেটে গিয়ে রক্তপাত হতে পারে। বিশেষ করে ধুলোবালি, পরাগকণা, ঠান্ডা বাতাস বা নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি অ্যালার্জি থাকলে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। সর্দি বা অ্যালার্জির সময় ঘন ঘন হাঁচি, নাক চুলকানো এবং জোরে জোরে নাক ঝাড়ার প্রবণতা থাকে। এতে নাকের ভেতরের নরম ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রক্তনালিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। অনেক সময় নাক বন্ধ থাকার কারণে মানুষ নাক পরিষ্কার করতে

অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে, যা রক্ত পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া দীর্ঘদিন নাকের ডিকনজেস্ট্যান্ট স্প্রে বা স্টেরয়েড স্প্রে ব্যবহার করলে নাকের ভেতরের ত্বক পাতলা হয়ে যায়, ফলে রক্তপাত সহজে শুরু হয়। অ্যালার্জি ও সর্দি-কাশিজনিত নাক দিয়ে রক্ত পড়া সাধারণত গুরুতর নয়, তবে বারবার হলে তা অস্বস্তিকর ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে অ্যালার্জির কারণ এড়িয়ে চলা, নাক বেশি না ঝাড়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রতিকার
নাক দিয়ে রক্ত পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক প্রতিকার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমেই রোগীকে সোজা হয়ে বসাতে হবে এবং মাথা সামান্য সামনে ঝুঁকিয়ে রাখতে হবে, যাতে রক্ত গলার ভেতরে না যায়। এরপর নাকের নরম অংশটি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে চেপে ধরে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে রাখতে হবে। এই সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে এতেই রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। রক্ত পড়ার সময় নাকের ওপর বা কপালের কাছে ঠান্ডা সেঁক দিলে রক্তনালি সংকুচিত হয় এবং রক্তপাত কমতে সাহায্য করে। রক্ত বন্ধ হওয়ার পর কিছুক্ষণ নাক ঝাড়া, কাশি বা জোরে হাঁচি দেওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। নাকের ভেতরের শুষ্কতা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্যালাইন স্প্রে বা নরমাল স্যালাইন ব্যবহার করা উপকারী।
নাক দিয়ে বারবার রক্ত পড়া প্রতিরোধের জন্য কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি। শুষ্ক আবহাওয়ায় ঘরের ভেতর আর্দ্রতা বজায় রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নাক খোঁটার অভ্যাস পরিহার করা উচিত। অকারণে নাকের স্প্রে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি উচ্চ রক্তচাপ, অ্যালার্জি বা অন্য কোনো রোগের কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়ে, তাহলে সেই মূল রোগের চিকিৎসা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে যদি রক্তপাত ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে বন্ধ না হয়, খুব বেশি পরিমাণে রক্ত পড়ে, অথবা বারবার এই সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
চিকিৎসকের পরামর্শ
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার ক্ষেত্রে কখন ও কেন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় নাক দিয়ে রক্ত পড়া সামান্য ও সাময়িক হলেও কিছু পরিস্থিতিতে এটি গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। যদি নাক দিয়ে রক্ত পড়া ১৫–২০ মিনিট চেপে ধরার পরও বন্ধ না হয়, তাহলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। দীর্ঘ সময় ধরে রক্তপাত চললে শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি তৈরি হয়। বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়া, বিশেষ করে অল্প কারণেই রক্তপাত শুরু হলে, তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
একইভাবে যদি এক পাশ দিয়েই ঘন ঘন রক্ত পড়ে, অথবা রক্তের সঙ্গে মাথা ঘোরা, তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা বা বুক ধড়ফড় করার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে তা উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য জটিল রোগের লক্ষণ হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ধরনের সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আরও বেশি জরুরি। চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস, রক্তচাপ, ওষুধ সেবনের তথ্য এবং প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা বা নাকের ভেতরের পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করেন। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিলে সমস্যা স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তাই নাক দিয়ে রক্ত পড়াকে হালকাভাবে না নিয়ে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সুস্থ থাকার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
লেখকের শেষ কথা
নাক দিয়ে রক্ত পড়া একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটি কখনো কখনো গুরুতর রোগের ইঙ্গিতও দিতে পারে। সাধারণ কারণে যেমন শুষ্ক আবহাওয়া, নাক খোঁটা বা অ্যালার্জি-সর্দি, রক্তপাত সাময়িক এবং সহজেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তবে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তজনিত রোগ, নাকের আঘাত বা টিউমারসহ অন্যান্য জটিলতার কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়লে তা বারবার হতে পারে বা বেশি পরিমাণে হতে পারে। তাই হঠাৎ বা ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক প্রাথমিক যত্ন নেওয়া জরুরি, যেমন মাথা সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে বসা, নাকের নরম অংশ চেপে ধরাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শুষ্কতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান, ঘরের আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং নাক বেশি ঝাড়া বা খোঁটার অভ্যাস পরিহার করাও সহায়ক।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যদি রক্তপাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, বারবার হয় বা অন্য উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিক যত্ন ও চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চললেই নাক দিয়ে রক্ত পড়া সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং বড় জটিলতা এড়ানো যায়। সহজভাবে বলতে গেলে, নাক দিয়ে রক্ত পড়া অপ্রতিরোধ্য নয়, সচেতনতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলেই এটি সহজেই সামলানো যায়।
আরাবি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url