"জ্বর"। "ঘন ঘন জ্বর হওয়া কিসের লক্ষণ"। "জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়"।
"থানকুনি পাতা ৭টি রোগের কার্যকর প্রাকৃতিক ওষুধ"। "থানকুনি পাতা উপকারিতা ও অপকারিতা"জ্বর মানুষের শরীরে পরিবর্তন নিয়ে আসে। জ্বর হলে হতাশ হবেন না। আজকে আমরা জ্বর সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। মানুষের শরীরে জ্বর কেন হয়, জ্বরের লক্ষন কি কি , জ্বর হলে কি করবেন সমুস্থ বিষয়। মানবদেহের একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। এটি নিজে কোনো রোগ নয়; বরং শরীরের ভেতরে কোনো সংক্রমণ, প্রদাহ বা অসামঞ্জস্যের সংকেত হিসেবে দেখা দেয়। সাধারণত দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রায় ৯৮.৬° ফারেনহাইট হলেও, এর চেয়ে বেশি হলে তাকে জ্বর বলা হয়।

ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী সংক্রমণ, অ্যালার্জি কিংবা অতিরিক্ত পরিশ্রম বিভিন্ন কারণে জ্বর হতে পারে। জ্বরের সময় শরীর দুর্বল লাগে, মাথাব্যথা, কাঁপুনি, ঘাম, ক্ষুধামান্দ্য ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। প্রকৃতপক্ষে জ্বর শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ, যা রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা অতিরিক্ত জ্বর হলে তা মারাত্মক রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই জ্বরকে হালকাভাবে না নিয়ে এর কারণ নির্ণয় ও যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
পেজ সূচিপত্রঃ
জ্বর হলে কি করবেন?
জ্বর হলে প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। শুরুতে শরীরের তাপমাত্রা মেপে জ্বরের মাত্রা নির্ণয় করতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া খুবই জরুরি, কারণ এতে শরীর দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য পায়। জ্বরের সময় শরীর থেকে বেশি পানি বের হয়ে যায়, তাই পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা স্যুপ বেশি করে পান করা উচিত। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া ভালো। জ্বর বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। শরীর ঠান্ডা রাখতে কুসুম গরম পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে শরীর মুছলে আরাম পাওয়া যায়। যদি জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয় বা সঙ্গে বমি, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট বা তীব্র ব্যথা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।
শরীরে জ্বর কেন হয়?
শরীরে জ্বর হয় মূলত দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ার কারণে। যখন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে, তখন ইমিউন সিস্টেম সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। এই সময় শরীর থেকে কিছু রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যা মস্তিষ্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী কেন্দ্রকে প্রভাবিত করে এবং শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে জ্বর দেখা দেয়।

জ্বর হওয়ার অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে প্রদাহ, ইনফেকশন, টিকা নেওয়ার পরের প্রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত গরমে থাকা, হিট স্ট্রোক, অ্যালার্জি কিংবা কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগ। কখনো কখনো মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণেও সাময়িকভাবে জ্বর হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে জ্বর শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়া, যা রোগজীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করে। তবে দীর্ঘদিন জ্বর থাকলে তা গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে।
কি খেলে জ্বর কমে?
জ্বর হলে সঠিক খাবার ও পানীয় গ্রহণ করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায় এবং শরীরের শক্তি ফিরে আসে। প্রথমেই প্রচুর তরল খাবার খাওয়া জরুরি, যেমন পানি, ডাবের পানি, ওআরএস, লেবুর শরবত ও হালকা স্যুপ। এগুলো শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। জ্বরের সময় হালকা ও সহজপাচ্য খাবার যেমন ভাতের মাড়, খিচুড়ি, সেদ্ধ সবজি, সুজি বা ওটস খাওয়া ভালো। ফলের মধ্যে কমলা, লেবু, পেয়ারা ও আপেলের মতো ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আদা ও মধু মিশিয়ে কুসুম গরম চা বা আদা-পানি খেলে গলা ব্যথা ও জ্বরের অস্বস্তি কমে। টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। তবে তেল-মশলাযুক্ত, ভাজাপোড়া ও খুব ঠান্ডা খাবার এ সময় এড়িয়ে চলা উচিত।
ঘন ঘন জ্বর হওয়া কিসের লক্ষণ
ঘন ঘন জ্বর হওয়া শরীরের ভেতরে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা বা রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। বারবার জ্বর দেখা দিলে তা সাধারণ সংক্রমণ ছাড়াও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার লক্ষণ হতে পারে। যেমন—বারবার ভাইরাল জ্বর, টাইফয়েড, যক্ষ্মা বা মূত্রনালির সংক্রমণ হলে ঘন ঘন জ্বর হতে পারে। এছাড়া ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো কিছু রোগে নির্দিষ্ট বিরতিতে জ্বর আসে। অটোইমিউন রোগ, যেমন লুপাস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রেও ঘন ঘন জ্বর দেখা যায়। কখনো কখনো থাইরয়েড সমস্যা, রক্তস্বল্পতা বা ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও জ্বর দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘদিন মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন বা পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবেও শরীর দুর্বল হয়ে বারবার জ্বর হতে পারে। তাই ঘন ঘন জ্বর হলে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়
জ্বর হলে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে আরাম পাওয়া যায়। প্রথমেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ বিশ্রাম শরীরকে রোগের সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে। বেশি করে পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ভেষজ চা পান করলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং পানিশূন্যতা দূর হয়। কুসুম গরম পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে শরীর মুছলে জ্বর কমাতে সহায়তা করে। তুলসীপাতা, আদা ও গোলমরিচ দিয়ে তৈরি চা জ্বর ও সর্দি-কাশিতে উপকারী। মধু ও আদা একসঙ্গে খেলে গলা ব্যথা ও শরীর ব্যথা কমে। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া উচিত, যেমন খিচুড়ি বা স্যুপ। ঘর ঠান্ডা ও বাতাস চলাচলযুক্ত রাখা ভালো। তবে জ্বর বেশি হলে বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে ঘরোয়া উপায়ের পাশাপাশি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
শিশুর জ্বর ১০২ হলে করণীয়
শিশুর জ্বর যদি ১০২° ফারেনহাইট হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। প্রথমেই শিশুর শরীরের তাপমাত্রা সঠিক থার্মোমিটার দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। শিশুকে হালকা পোশাক পরিয়ে আরামদায়ক পরিবেশে রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে। জ্বরের সময় শরীর থেকে পানি বেশি বের হয়ে যায়, তাই শিশুকে ঘন ঘন বুকের দুধ, পানি, ওআরএস বা তরল খাবার খাওয়ানো জরুরি।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে, তবে নিজে নিজে কোনো ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া উচিত নয়। কুসুম গরম পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে শরীর মুছলে জ্বর কিছুটা কমতে পারে। যদি জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি, বমি, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত কান্না বা তিন দিনের বেশি জ্বর থাকে, তাহলে দ্রুত শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
১০৩ ডিগ্রি জ্বর হলে করণীয়
১০৩° ফারেনহাইট জ্বর তুলনামূলকভাবে বেশি এবং এটি অবহেলা করা উচিত নয়। প্রথমেই শরীরের তাপমাত্রা সঠিকভাবে মেপে নিশ্চিত হতে হবে এবং রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে। হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরানো দরকার, যাতে শরীরের তাপ সহজে বের হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি, ওআরএস, ডাবের পানি বা স্যুপ পান করাতে হবে, কারণ জ্বরে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে নির্ধারিত মাত্রার বেশি নেওয়া যাবে না। কুসুম গরম পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে শরীর মুছলে জ্বর কিছুটা কমে। ঘর ঠান্ডা ও বাতাস চলাচলযুক্ত রাখা উচিত। যদি জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি, অচেতনতা, শ্বাসকষ্ট, তীব্র মাথাব্যথা, বমি বা ত্বকে র্যাশ দেখা দেয়, অথবা জ্বর ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে না কমে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া উচিত
টাইফয়েড জ্বর হলে শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ সময় হালকা, নরম ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। ভাতের মাড়, পাতলা খিচুড়ি, সুজি, ওটস ও সেদ্ধ ভাত সহজে হজম হয় এবং শক্তি জোগায়। ডাল ও সবজির পাতলা স্যুপ শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে। ফলের মধ্যে কলা, আপেল ও পেঁপে খাওয়া উপকারী, কারণ এগুলো সহজে হজম হয়। প্রচুর পানি, ওআরএস, ডাবের পানি ও লেবুর শরবত পান করতে হবে। দই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তেল-মশলাযুক্ত খাবার, ভাজাপোড়া, ঝাল ও বাইরের খাবার একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত ওষুধ নিয়মিত গ্রহণের পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাস টাইফয়েড থেকে দ্রুত সুস্থ হতে সহায়তা করে।
জ্বর কমানোর দোয়া
জ্বর হলে চিকিৎসার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা একজন মুমিনের জন্য শান্তি ও মানসিক শক্তির উৎস। ইসলামে রোগকে পরীক্ষা ও গুনাহ মাফের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) জ্বর হলে একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। দোয়াটি হলো: “আল্লাহুম্মা আযহিবিল বাসা, রাব্বান্নাস, ইশফি আন্তাশ শাফি, লা শিফা’আ ইল্লা শিফাউকা, শিফা’আন লা ইউগাদিরু সাকামা।” অর্থ: হে মানুষের পালনকর্তা! কষ্ট দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন। আপনি ছাড়া আর কেউ আরোগ্য দিতে পারে না। এমন আরোগ্য দান করুন যাতে কোনো রোগ অবশিষ্ট না থাকে।

এই দোয়া বিশ্বাস ও মনোযোগের সঙ্গে পড়লে মনে প্রশান্তি আসে এবং আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা বাড়ে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ ও বিশ্রাম নেওয়াও জরুরি, কারণ দোয়া ও চিকিৎসা—দু’টিই ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ।
বাচ্চাদের জ্বর ভালো হওয়ার দোয়া
বাচ্চারা জ্বর হলে মা-বাবা খুব উদ্বিগ্ন হন। ইসলামে শিশুদের সুস্থতা এবং রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) জ্বর বা অসুস্থতার সময় বিশেষ দোয়া পড়তেন, যা শিশুদের জন্যও প্রযোজ্য। দোয়ায় আল্লাহর কাছে শিশুদের আরোগ্য, শক্তি ও সুস্থতা কামনা করা হয়। যেমন দোয়ার অর্থ দাঁড়ায়: “হে আল্লাহ! আমার সন্তানের রোগ দূর করুন, তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে দিন। আপনি ছাড়া আর কেউ আরোগ্য দিতে পারেন না। এমন সুস্থতা দিন, যা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।”
দোয়া পড়ার সময় বাবা-মা বা অভিভাবকরা বিশ্বাস ও ভরসার সঙ্গে আল্লাহর কাছে অনুনয়-ভিক্ষা করতে পারেন। দোয়ার সঙ্গে শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সুষম ও সহজপাচ্য খাবার এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দেওয়াও জরুরি। দোয়া শিশুর মনোবল বাড়ায় এবং আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা স্থাপন করে।
জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ
জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসার জন্য অপরিহার্য। জ্বর শুধু একটি উপসর্গ; এর পেছনে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ইনফেকশন, প্রদাহ বা অন্যান্য গুরুতর রোগ লুকিয়ে থাকতে পারে। স্ব-চিকিৎসা বা ভুল ওষুধ গ্রহণ শরীরকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত

করতে পারে। চিকিৎসক রোগীর শরীরের তাপমাত্রা, অন্যান্য লক্ষণ, বয়স ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখে সঠিক পরীক্ষা নির্ধারণ করেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ যেমন প্যারাসিটামল বা অ্যান্টিবায়োটিক শুধুমাত্র নির্দেশিত মাত্রায় দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া মানে শুধু ওষুধ নয়, পাশাপাশি ডায়েট, বিশ্রাম ও হাইড্রেশন সম্পর্কিত সঠিক নির্দেশনা মেনে চলা। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ বা দীর্ঘদিন জ্বরের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অবিলম্বে নেওয়া জরুরি, যাতে জটিলতা এড়ানো যায় এবং দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়।
লেখকের শেষ কথা
জ্বর হলো শরীরের একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ, যা প্রায়শই সংক্রমণ বা শরীরের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সংকেত দেয়। এটি স্বাভাবিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ হিসেবে কাজ করে, কারণ উচ্চ তাপমাত্রায় জীবাণুর বৃদ্ধি কমে এবং শরীর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তবে জ্বরকে কখনো হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়, বিশেষ করে যদি এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা সঙ্গে অন্য উপসর্গ থাকে। জ্বর কমানোর জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, হাইড্রেশন, সহজপাচ্য খাবার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ঘরোয়া উপায় ও আল্লাহর কাছে দোয়াও সহায়ক হতে পারে, কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সব মিলিয়ে, জ্বর আমাদের শরীরের সতর্কবার্তা এবং এটি সচেতনভাবে মোকাবেলা করলে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।
আরাবি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url